

২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ, আর ঠিক সেই সময় থেকেই হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ নীরবে পাশে দাঁড়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচির সময় প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে তাদের কর্মীদের হাতে ছিল পানি, শরবত আর শুকনো খাবার। ন্যায্য দাবির এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ক্লান্ত শরীর ও তৃষ্ণা মেটানোই ছিল তাদের প্রথম দায়িত্ব।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা শুরু হলে, জীবনের ঝুঁকি ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক উপেক্ষা করে এইচসিএসবির কর্মীরা রাস্তায় রাস্তায় ছুটে বেড়ায়। তখন শুধু খাবার নয়, জরুরি চিকিৎসা সেবাও যুক্ত হয়। আহতদের কোলে তুলে হাসপাতালে নেওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, এমনকি আর্থিকভাবে অসচ্ছল আহতদের হাতে নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া—সবকিছুই চলতে থাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ, যানবাহন অচল—সব বাধা পেরিয়েও তাদের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। মুহাম্মাদপুর কার্যালয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে, নামাজ ও দোয়ার পর কর্মীরা কারফিউয়ের মধ্যেই বেরিয়ে পড়ে। আন্দোলন এখনো চলমান, আর আলহামদুলিল্লাহ—এইচসিএসবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চলমান দায়িত্ব হলো আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। আজও তারা নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই।