

গাজার নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে টিম হাফেজ্জীর পথচলা শুরু হয় সীমান্তবর্তী শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে। রাষ্ট্রদূত, রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক কোটি টাকার বেশি মানবিক সহায়তা যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, আর্থিক সহায়তা ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গড়ে তোলা হয় ‘হাফেজ্জী ক্যাম্প’। সেখানে প্রায় ৫০০ পরিবার আশ্রয় পায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও মাদরাসা পুনর্গঠনের কাজও পরিচালিত হয়।
টিম হাফেজ্জীর এই বিস্তৃত কার্যক্রম নিয়ে ফিলিস্তিনের জাতীয় টেলিভিশন "ফিলিস্তান টিভি" তেও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

গাজা ও মিশরে টিমের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা সহায়তা, রান্না করা খাবার বিতরণ, সবজি প্যাকেজ, শীতবস্ত্র, ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ পর্যন্ত। শিশুদের শিক্ষার আলো ফিরিয়ে দিতে Al Majid Academy–তে ৫০০ শিশুর পড়াশোনার দায়িত্বও গ্রহণ করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন হামলার মধ্যেও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে দুইজন ভাই শহীদ হয়েছেন এবং তাদের জন্য দোয়া অব্যাহত রয়েছে।
এই সমন্বিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংস্থা Egypt Youth Circle–এর সাথেও যৌথভাবে কাজ করছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে গাজার রাফা বর্ডার এবং সুদানের ওয়াদি হালফা–আসওয়ান করিডোর হয়ে আগত মাজলুম গাজা ও সুদানবাসীদের মাঝেও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাদের মাঝে ইফতার বিতরণের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ২৭ কেজি ওজনের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন ডক্টর মামদুহ। তিনি Egypt Youth Circle–এর ডিরেক্টর এবং Egypt Human Rights Organization–এর ইকোনমিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান। তিনি মিশর সরকারের আস্থাভাজন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।
টিম হাফেজ্জীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইবরাহিম খলিল, মুহাম্মদ রাজ, মাওলানা মুহসিন বিন মুঈন, মাওলানা জমির মাশরুর ও মাওলানা জামি সরাসরি উপস্থিত থেকে এই খেদমতের সাথে সম্পৃক্ত আছেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অনুদান যাচাই করা হয় DVC সিস্টেমে। এর তদারকিতে আছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। রেড ক্রিসেন্ট, আল-আজহার ও ফিলিস্তিনি দূতাবাসের স্বীকৃতি পাওয়া এই উদ্যোগ আজ বাংলাদেশি মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মহান আল্লাহ তাআলা যেন এই সামান্য খেদমতকে কবুল করেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং মাজলুম ভাইবোনদের জন্য রহমত, নিরাপত্তা ও স্বস্তির দরজা খুলে দেন। সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।